ওয়ার্ডপ্রেস কি এবং ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে কিছু কথা

WordPress) ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে বর্তমানে সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্লগ পাবলিশিং অ্যাপলিকেশনস এবং শক্তিশালী কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), যা পিএইচপি এবং মাইএসকিউএল দ্বারা তৈরিকৃত ওপেন সোর্স ব্লগিং সফটওয়্যার।  সহজ ভাষায় বলতে গেলে ওয়ার্ডপ্রেস হল এমন একটি সিস্টেম বা ব্যবস্থা যা মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলা যায়। ওয়ার্ডপ্রেস প্রথম পর্যায়ে একটি ফ্রি ব্লগিং প্লাটফর্ম ছিল যা পরবর্তীকালে একটি ইঞ্জিন তৈরি করে এবং বিনামূল্যে তা ডাউনলোড করে যেকোনো ব্লগারকে ব্যবহারের সুবিধা দিতে শুরু করে . ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা কোনো প্রকার পিএইচপি, মাইএসকিউএল বা এইচটিএমএল জ্ঞান ছাড়াই একটি প্রোফেশনাল মানের ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব। সারা বিশ্বে যতগুলো ওয়েবসাইট রয়েছে তার  প্রায় ৬০ ভাগ ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে কোন লেখাকে সহজে পাবলিশ করার লক্ষ্যে এবং সময় বাঁচানোর উদ্দেশ্যে ওয়ার্ডপ্রেস তার যাত্রা শুরু করে।

২০০৩ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই এর ব্যবহারকারী এবং পেজ ভিসিটরের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকে। জানুয়ারি ২০১২ পর্যন্ত ওয়ার্ডপ্রেস ৩.৪ সংস্করণ ৩ কোটিরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছিল । আরো একটি সুখকর বিষয় হল ওয়ার্ডপ্রেস একটি ওপেন সোর্স সিস্টেম অর্থাৎ এর যেকোন অংশ ইচ্ছা করলে ডিলিট,মোডিফাই বা নতুন কিছু এডও করা যায়। ওয়ার্ডপ্রেস মূলত একটি পিএইচপি স্ক্রিপ্ট যা সার্ভারে ইনস্টল করতে হয়। যার ওয়েবসাইট সম্পর্কে জ্ঞ্যান একদম শূন্যের কোটায় তারাও ইচ্ছা করলে ওয়ার্ডপ্রেস ভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সহজেই এর দেখভাল করতে পারে। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে বানানো ওয়েবসাইটের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর কারণ হিসেবে বলা যায় এর ব্যবহার উপযোগিতা। একজন সাধারণ ইউজারকে ওয়েবসাইট বানানোর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে ধারণা দিলে সে খুব সহজেই তা বানাতে এবং মেইনটেইন করতে পারবে।

বিশ্বের বড় বড় ওয়েবসাইট যেমন CNN,SONY,Forbes Magazine,Mashable ইত্যাদি ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ২০১৫ সালের একটি জরিপ মতে পৃথিবীতে বর্তমানে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি করা ওয়েবসাইটের সংখ্যা প্রায় ৬০ মিলিয়ন।

কেন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করব?

১।ওয়ার্ডপ্রেসের সব থেকে লক্ষ্যণীত দিক হল এটি ব্যবহার করা একদম সহজ এবং অনেকাংশেই ইউজার ফ্রেন্ডলি।

২।ওয়ার্ডপ্রেসে রয়েছে ওপেন সোর্স সুবিধা অর্থ্যাত যে কেউ এর মোডিফাই বা এডিট করার ক্ষমতা রাখে।

৩।রয়েছে ২০০০ এর চেয়েও অধিক থিমস এবং প্রায় ৩১০০০ প্লাগিন যা ইনস্টল করে সহজেই একটি পুর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব।

৪। ওয়ার্ডপ্রেসে সার্ভারে ইনস্টল করতে সর্বোচ্চ তিন থেকে চার মিনিট সময় ব্যয় হয় এবং এবং ওয়েবসাইটের লোড হওয়ার সময়ও অনেকাংশে কম।

৫। ওয়ার্ডপ্রেসে রয়েছে অটো আপডেট সুবিধা। এর মাধ্যমে সার্ভারে থাকে ওয়ার্ডপ্রেস অটোমেটিকভাবে আপডেট হয়ে থাকে।

৬। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে সহজেই প্রায় সব ধরনের ফাইলের ম্যানেজমেন্ট করা সম্ভব অর্থ্যাত ওয়ার্ডপ্রেসের ফাইল হেন্ডেলিং সুবিধা অনেকটাই প্রশংসনীয়।

৭। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে সহজেই বিসনেস, পার্সোনাল, অফিসিয়াল,ব্লগিং,রেটিং,শপিং,গ্যালারি,ভিডিও কালেকটিং,নিউজপেপার এবং ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব এবং তা কোনরকম ঝামেলা ছাড়াই।

ওয়ার্ডপ্রেসের সাব ডোমেইন দিয়ে ওয়েবসাইট খোলা এবং সার্ভারে ওয়ার্ডপ্রেস আপলোড করা নিয়ে আমাদের পূর্ণাঙ্গ টিউটোরিয়াল পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হবে। । চোখ রাখুন টিউটোরিয়াল সেকশনের ওয়ার্ডপ্রেস অংশে । ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে আপনাদের আরো কিছু জানার থাকলে তা অবশ্যই কমেনেট জানান। ওয়ার্ডপ্রেসের সব সুবিধা আমি আপনাদের সামনে তুলে আনার চেষ্টা করেছি। আরো কিছু জানার থাকলে আপনারা অবশ্যই নেটে খোজ করতে পারেন।

Advertisements

আপনার মতামত জানান

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s